প্রধান সূচি

নিরাপদ মাতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্য

Success-of-Bangladesh-in-sa

সুস্থ জাতি গড়তে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের পরিচর্যা অতি জরুরি। স্বাস্থ্যখাতে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু, নবজাতক ও শিশুমৃত্যু হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের এ অগ্রগতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও প্রশংসিত হয়েছে।

সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ পুরস্কার লাভ করেছে। মা ও শিশুস্বাস্থ্যে অসামান্য অবদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল হেলথ ফর ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক ‘সাউথ – সাউথ’ পুরস্কার অর্জন করে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। বর্তমান সরকার মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের বহুবিধ কার্যকর পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এমডিজি অর্জন করেছে। এ অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা অর্জন করেছি এমডিজি পুরস্কার। এছাড়া নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের অগ্রগতির জন্য আমরা পেয়েছি ‘সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড’।

বাংলাদেশে গত এক দশকে মাতৃমৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ কমেছে। আর এ হার কমানোর ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূটির অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। বর্তমানে দক্ষ সেবাদানকারীর সহায়তার প্রায় ৫০ শতাংশ প্রসব হচ্ছে। অথচ ২০১০ সালে এ হার ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার।

এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। এছাড়া মিডওয়াইফারি কোর্স চালু, প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফদের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পদায়ন, মহিলা মাঠকর্মীদের ৬ মাসের ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যু হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মায়েদের ও নবজাতকের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা খুবই জরুরি। আমি আশা করি সকল পর্যায়ে সমন্বিত ও অর্থবহ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাসে ঝউএ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে।

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার প্রসূতিসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসকদের প্রসূতিসেবা প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। হতদরিদ্র মায়েদের গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে অনেক জেলা এবং উপজেলায় মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম চালু করেছে। প্রতি বছর ১০টি করে উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে ২০২২ সাল নাগাদ ১০৩টি উপজেলাকে এ ভাউচার স্কিমের আওতায় নিয়ে আসার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের।