প্রধান সূচি

মেহেদি-আংটি দেখে আঁখি ও তার বরকে শনাক্ত

Mehdi-ring

হাতে বিয়ের মেহেদি আর আংটি দেখে আঁখি ও তার বরকে শনাক্ত করা হয়। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী দক্ষিণ পাড়ার বাবা রফিকুল ইসলাম পেশকার মেয়েকে ছোট থেকে আদর করে ডাকতেন সোনামণি বলে। সেই নাম আজও রয়ে গেছে। আসল নাম আঁখি মণি হলেও সবাই ভালোবেসে ডাকত সোনামণি। সেই সোনামণির লাশ যখন গতকাল শনাক্ত করা হয়, তখনো তার হাতে বিয়ের মেহেদির রং লেগে ছিল। পুড়ে যাওয়া শরীর চেনা যাচ্ছিল না। শেষে বিয়ের মেহেদির রং ও বিয়ের আংটি দেখে বাবা পেশকার মিয়া শনাক্ত করেন মেয়ের লাশ।

মঙ্গলাবার বিশেষ বিমানে বাবা পেশকার মিয়া নেপাল যান। পুড়ে যাওয়া মেয়ের শরীর দেখে বাবা ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। পরে পুলিশ ও চিকিৎসকরা তাকে সেবা ও সান্ত্বনা দেন। জানা গেছে, নেপালে হানিমুন করতে গিয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী গ্রামের রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়ার মেয়ে আঁখি ও তার স্বামী বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। গত ৩ মার্চে তাদের বিয়ে হয়। স্বামী নাছির মিনহাজের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামে। নবদম্পতি বিয়ের পর উঠেছিল ঢাকার ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাটে। আঁখি মণিদের বাড়ি রুপসদীর দক্ষিণপাড়ার সরকার বাড়ি। জানা গেছে, আঁখি মণি মাস্টার্স পাস করে পরিবারের সম্মতিতে গত ৩ মার্চ বেশ ধুমধাম করে বিয়ে হয়।

মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী নেপালে যাওয়ার জন্য গত সপ্তাহে টিকিট বুকিং দেওয়া হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মৃতদের তালিকার ১৮ ও ১৯ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে এই হতভাগ্যদের নামের তালিকা।

জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টায় মেয়ে ও জামাইকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে আসে পরিবারের সবাই। যাওয়ার সময় কী এক অজানা আশঙ্কায় আঁখি মণি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন। সেই অজানা আশঙ্কাই সত্যি হলো। সোমবার দুপুরে বর মিনহাজ বিন নাছিরসহ বিমানটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। আঁখি ও তার স্বামী মিনহাজের লাশ এখনো নেপালের মর্গে আছে।