প্রধান সূচি

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নারীদের প্রশিক্ষণ দেবে পুলিশ

Sexual-harassment

নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিনিয়ত পথে ঘাটে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। আর এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি ভারতে। তাই যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে নারীদের কৌশল শেখানোর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, যৌন সহিংসতা থেকে বাঁচতে নারীদের প্রশিক্ষণ দেবে দেশটির পুলিশ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন নারী এমন পরিস্থিতির শিকার হলে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।

কলকাতায় বাস থেকে শুরু করে ট্রেন-অটোরিকশায় নারী যাত্রীরা মাঝে মাঝেই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। সহযাত্রী পুরুষের পাশাপাশি চালকদের বিরুদ্ধেও যৌন হেনস্থার অভিযোগ ভুরিভুরি। সম্প্রতি এক সহযাত্রীর দ্বারা অটোরিকশায় হেনস্থার শিকার হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী স্নেহা নন্দী।

স্নেহার ভাষায়, সেদিন বান্ধবীর সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। যাদবপুর থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় এক ব্যক্তি তাদের সিগারেট খাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেন। এরপর সেই ব্যক্তি জোর করে তাদের সঙ্গে একই অটোরিকশাতেও উঠেন।

সেদিনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে নন্দী বলেন, ‘ওই লোকটিকে কয়েকবার বারণ করেছিলাম অসভ্যতা করতে। সে শোনেনি। উল্টে আমরা যে অটোতে উঠলাম, একরকম জোর করেই সে-ও উঠে পড়লো। খুব খারাপভাবে গায়ে হাত দিচ্ছিল। একটা সময়ে চালক তাকে সামনে নিজের পাশে নিয়ে যান। সেখান থেকেও সে সমানে কটু কথা বলেই যাচ্ছিল।’

নন্দি আরও জানান, ‘যখন সে বলে যে আমাদের মতো বেশ্যা মেয়েদের সঙ্গে নাকি এরকম ব্যবহারই করা উচিত, তখন আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। পুলিশের একটা জিপ দেখে আমরা চেঁচামেচি করি। তখন অটোচালক ওই লোকটিকে নামিয়ে দেয়। আমরাও নামি। রাতের বেলায় দুটি মেয়েকে রাস্তায় চেঁচামেচি করতে দেখেও প্রথমে কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি পুলিশও নয়। অনেকক্ষণ পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যায় থানায়’।

দিন কয়েক আগেই চলন্ত বাসে প্রকাশ্যে হস্তমৈথুন করার ঘটনা মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে এক ছাত্রী। সেই ভিডিও দেখে এক মধ্য বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এমন অহরহও নারীদের বিভিন্ন যানে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই হয়রানির সময় নারীরা নিজেরা যেন আত্মরক্ষা করতে পারেন সেজন্য শনিবার থেকে নারীদের শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

পুলিশের এমন প্রচেষ্টা কতটা সুফল দেবে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারী আন্দোলনের নেত্রী শ্বাশতী ঘোষ বলেন, ‘কলকাতা পুলিশের এই উদ্যোগকে নিশ্চয়ই স্বাগত জানাব। তবে একই সঙ্গে এটাও বলব যে নারীরা সেটা বাস্তবে কতটা ব্যবহার করতে পারবে, সেই মানসিক জোরটাও তৈরি করা দরকার। হেনস্থা তো তাদেরই করা হয়, যে নারী আত্মরক্ষা করতে পারবে না বলে হামলাকারী মনে করে! নারীরাও যদি এবার পাল্টা আঘাত করতে পারে, তাহলে হয়তো হেনস্থার ঘটনা কমবে’।

যৌন হয়রানির ঘটনা নিয়ে থানায় গেলে তা যেন গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় সে ব্যাপারে পুলিশকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন শ্বাশতী।

যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ছাত্রী স্নেহা নন্দী বলেন, ‘আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর আগে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন। স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে পুলিশের মধ্যেও এই সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।