প্রধান সূচি

নাজিরপুরে পুলিশ পিটিয়ে আসামী ছিনতাই, থানায় মামলা: গ্রেফতার-৪

Nazirpur_Pic_09_05_18-2

পিরোজপুরের নাজিরপুরে থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ এক কনস্টেবলকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর আক্রমনকারীরা পুলিশের হাতে আটক এক আসামীকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

এ ঘটনায় টিএন্ডটি’র এক কর্মকর্তা ও এক জামায়াত নেতাসহ ৭জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে নাজিরপুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ ওই মামলার এজাহার ভুক্ত ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামের মৃত কাছেম আলীর ছেলে ও টিএন্ডটি’র সহকারী ইঞ্জিনিয়ার (বাগেরহাট জেলায় কর্মরত) এমদাদুল হক (৫৫), একই গ্রামের আজাহার আলী বিশ্বাসের ছেলে লিটন বিশ্বাস (৩৫), মৃত মোজাফ্ফর বিশ্বাসের ছেলে শাহজাহান বিশ্বাস (৫৫) এবং মামুন বিশ্বাসের স্ত্রী পলি বেগম (৩০)।

থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামের মোশারফ বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে প্রতিপক্ষরা মারধর করে ঘরে আটক করে রেখেছে। এমন সংবাদের ভিক্তিতে আটক ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাজিরপুর থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম ও কনস্টেবল নাসিরুজ্জামান সেখানে যায়।

এ সময় মোশারফ বিশ্বাসকে একটি ঘরে আটক পেয়ে উদ্ধার করে ভ্যান যোগে হাসপাতালে প্রেরণের চেষ্টাকালে ওই গ্রামের দেলোয়ার বিশ্বাসের ছেলে রুবেল বিশ্বাস (৩০) পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে।

এ সময় নাজিরপুর থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম তার পরিচয় জানতে চাওয়ায় সে পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে রুবেল পুলিশের পরিদেয় সরকারি পোষাক ধরে কয়েকটি ঘুষি মারে এবং টানা-হেচড়া করে পুলিশ অফিসারের র‌্যাংক-ব্যাজ ছিড়ে ফেলে। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যের সহায়তায় রুবেলকে আটক করে। তখন অন্যান্যরা চার দিক থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারপিট করতে থাকে। এ সময় রুবেল পুলিশ অফিসারের কোমরে থাকা পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা কালে তিনি পিস্তল রক্ষা কালে অন্যান্যরা রুবেলকে ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে কথা হয় টিএন্ডটি’র সহকারী ইঞ্জিনিয়ার এমদাদুল হকের সাথে তিনি সমকালকে বলেন, ভাই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতো বড় কিছু হবে বুঝতে পারিনি। আমার আর ৮ বছর চাকুরী আছে। নিউজ করলে চাকুরীটা থাকবে না।

মামলার অন্যতম পলাতক আসামী জামায়াত নেতা ফারুক বিশ^াসের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ভাই আমি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করি। আমি কোন জামায়াত-টামাত করি না। তাছাড়া ঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততাও নাই।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ওই গ্রামের মোশারফ বিশ্বাস নামে একজনকে প্রতিপক্ষরা মারধর করে ঘরে আটক করে রেখেছে। এমন সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম ও কনস্টেবল নাসিরুজ্জামানকে সেখানে পাঠানো হয়। তারা আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর সময় রুবেল বিশ্বাস বাঁধা দেয় এবং পুলিশের ওপর আক্রমন করে। পরে তাকে আটক করলে অন্যান্যরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে রুবেলকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলা এজাহার ভুক্ত ৪ আমাসীকে গ্রেফতার করে আজ বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।