প্রধান সূচি

নাজিরপুরে বাঙ্গী চাষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন অস্বচ্ছল নারীরা

Nazirpur_Pic_23_04_2018

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার অতুলনগর ও মাটিভাঙ্গার যে দিকে দু’চোখ যায় সে দিকে কেবলই দিগন্ত জোড়া মাঠে সবুজ-হলদের সংমিশ্রণে চৈত্রের বাহারী মৌসুমি ফল বাঙ্গীর (ফুট) সমারোহ। প্রায় সাড়ে তিন মাস নিবিড় পরিচর্যার পর মাঠে মাঠে এখন চলছে কৃষান-কৃষানীদের বাঙ্গী ফল তোলার হিড়িক। বাঙ্গী চাষীদের চোখ-মুখে এখন তাই হাসির ঝিঁলিক। তারা বলছেন, এবছর কোন প্রকার প্রকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেয়ায় এবং পোকামাকড়ের উপদ্রপ কম থাকায় বাঙ্গীর কাঙ্খিত উৎপাদন করতে পেরেছেন তারা। এ কারণে অতুলনগরের কৃষান-কৃষানীরা খুশীতে আত্মহারা-উজ্জীবীত-দিশেহারা।

উৎপাদিত ফসল নিয়ে আশায় বুক বেঁধে আছেন চাষীরা, হয়ত এ বছর তারা ভাল লাভের মুখ দেখবেন বলে। এনজিও থেকে আনা চড়া সুদের ঋনের বোঝাও তাই সহজেই মেটাতে পারবেন। কিন্তু উৎপাদিত বাঙ্গীর কাঙ্খিত বাজার দর না পাওয়া নিয়ে কিছুটা সংকিত রয়েছেন তারা।

চাষী বাশার শেখ (৪৫) জানান, উৎপাদিত বাঙ্গী দ্রুত রপ্তানি এবং পরিবহন ব্যায় বেড়ে যাওয়ায় তারা খরচ পুষিয়ে অন্যত্র বিক্রি করতে পারছেননা। এ কারণে অনেক ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হবার উপক্রম। স্থানীয় বাজারে মৌসুমের শুরুতেই বাঙ্গীর দাম ভাল পেলেও তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে সে দাম দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করেছে বলে জানান ওই চাষী। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বড় আকারের বাঙ্গীর দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, মাঝারি একটির দাম ৬৫ থেকে ৭০ এবং ছোট একটির দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবু হেনা মোঃ জাফর জানান, ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ বাঙ্গী ডায়েবেটিস রোগীদের জন্য সহায়ক।

নাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার দিগবিজয় হাজরা সমকালকে বলেন, উত্তরের জনপদ নাজিরপুরে চলতি খরিপ মৌসুমে প্রায় ১শ’ একর জমিতে বাঙ্গীর আবাদ হয়েছে। কেবল মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের অতুলনগর গ্রামেই চাষ হয়েছে ব্যাপক জমিতে। উৎপাদনও এ বছর বেশ ভাল। তার মতে, এখানকার পরিবেশ ও বেলে দো-আঁশ মাটির কারণে বাঙ্গীর চাষ অত্যন্ত উপযোগী, যে কারণে প্রতিবছর অত্র এলাকায় জনপ্রিয় ফসলে পরিনত হচ্ছে বাঙ্গী। তাদের বাঙ্গী চাষের ফলন ভালো হওয়ায় ওই এলাকার বহু মানুষ বাঙ্গী চাষে উৎসাহী হয়ে ওঠেছে।