প্রধান সূচি

সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাবে ইসলামী দলগুলো

06-11-18-PM_Songlap

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত ইসলামী দলগুলো। তিনি যেন আবারও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারেন, সে বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার এবং ভোটের মাঠে পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছেন এসব দলের নেতারা।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপে এসব প্রতিশ্রুতি দেন ইসলামী দলগুলোর নেতারা। সংলাপের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের কাছে তাদের এ মনোভাবের কথা তুলে ধরেন।

সংলাপের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার সরকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। ইসলামের কল্যাণে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান। সরকারের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকার সবার মতামত নিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপ করেন ১৬টি ইসলামী দলের ৫২ নেতা। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ছিল ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জালালী পার্টি, আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় ইসলামী জোট (বিএনআইএ), বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট এবং ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ)।

প্রায় দুই ঘণ্টার সংলাপে আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন ইসলামী দলগুলোর নেতারা। তাদের মধ্যে থেকে বেশ কয়েকজন নেতা বক্তৃতা দিলেও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের অন্য কোনো নেতা বক্তব্য রাখেননি। সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ইসলামী দলগুলোর নেতারা। সংলাপের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অঙ্কিত ক্যালিওগ্রাফি তুলে দেন নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নিজে সংলাপে অংশ নিয়ে ধৈর্য ধরে তাদের কথা শোনার জন্যও ধন্যবাদ জানান তারা।

পরে গণভবন চত্বরে প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সংলাপে প্রতিটি দলের নেতারা নিজেদের বক্তব্য ও কিছু দাবি উপস্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত এক দশকের শাসনামলের ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা। সংবিধানসম্মত নির্বাচনে সমর্থন জানিয়ে ইসলামী দলগুলো বলেছে, এ ব্যাপারে তারা ‘অংশী’ থাকবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার আদর্শ সমুন্নত রাখার ব্যাপারে উভয়পক্ষই সংলাপে একমত হয়েছে। সংলাপে দুই জোট ও দলগুলোর নেতাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত ছিল না।

ইসলামিক দলগুলোর পক্ষে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান পীরজাদা মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদী সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। চলমান গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের বৃহত্তম স্বার্থে সরকার একটি সুন্দর সাবলীল এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকারের প্রতি তাদের বিশ্বাস রয়েছে।

জাকের পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সুন্দর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে যেন সুন্দর সংসদ চলমান থাকতে পারে এবং দেশের চলমান উন্নয়ন গতিশীলতা পায়, সে লক্ষ্যে সংলাপে তারা অঙ্গীকার করেছেন। দেশবাসীর প্রতি শান্তির পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি রক্তাক্ত বাংলাদেশ তারা দেখতে চান না। তারা চান শান্তি ও সৌহার্দ্য।

আগামী জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে মতবিরোধের মধ্যেই গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উদ্যোগে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ডাকে সাড়া দিয়ে গত ১ নভেম্বর তাদের সংলাপে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর অন্য দলগুলোর সঙ্গেও তিনি সংলাপে বসেন। এরই ধারবাহিকতায় মঙ্গলবার ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেন তিনি।