প্রধান সূচি

পথচারীদের জন্য ইফতার সাজিয়ে বসে থাকেন তারা

If-they-sit-for-the-passeng

প্রথম রজমান শুক্রবার। ইফতারের বাকি মাত্র ৩০ মিনিট। এরই মধ্যে রাজধানীর পান্থপথ হয়ে যাতায়াতকারী পথচারীদের চোখ আটকে গেলে দুটি টেবিলে সাজানো ইফতারের পসরা দেখে। এই ইফতার সামগ্রী ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণী। পেছনে ব্যানারে লেখা আছে, ‘পথচারীদের জন্য ইফতার সেবা।’ ইফতারের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে শ্রমজীবী কিংবা পথচারীরা এখান থেকে বিনামূল্য ইফতার সংগ্রহ করছেন।

মাগরিবের আজান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তো রীতিমতো ভিড় লেগে গেল। পান্থপথ সড়কে চলাচলকারী পথচারীরা এখান থেকে বিনামূল্য ইফতার সংগ্রহ করছেন। ইফতার সেবায় নিয়োজিত তরুণ-তরুণীরাও বেশ আন্তরিকতায় সবার হাতে তুলে দিচ্ছেন ইফতার। পানি, খেজুর, পেয়াজু, বেগুনি, চপ, মুড়ি, জিলাপিসহ বেশ কয়েকটি আইটেম রয়েছে ইফতারে।

এভাবে পথচারীদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করেছে দেশের প্রথিতযশা আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দ্য স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের (এসইএল) দাতব্য প্রতিষ্ঠান এসইএল চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক ইবনুল সাইদ রানা বলেন, রাজধানী ঢাকায় নানা পেশাজীবী মানুষের বসবাস। কর্মব্যস্ত মানুষ ছুটে চলে শহরের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। রাজধানীবাসী এসব মানুষের কথা বিবেচনা করে রোজাদারদের ইফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত ইফতারে ব্যবস্থা আছে। পরিবহনে থাকাকালীন ইফতারের সময় হয়ে গেলে খুব সহজেই একজন রোজাদার ইফতার করে নিতে পারবেন। প্রথম রমজানে দেড় শতাধিক মানুষকে ইফতার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইফতার নিতে আসা একজন পথচারীর জানান, অফিস শেষে এ পথ দিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় এখান থেকে ইফতার নিয়ে যান তিনি। রাস্তায় ইফতারের সময় হলে এগুলো দিয়েই ইফতার করেন।

ইফতারের সময় পান্থপথের একপাশে ৩০-৩৫টি রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। রিকশা চালকরা এখান থেকে ইফতার সংগ্রহ করে রিকশায় বসেই ইফতার সারছেন। এখানে কথা হয় আব্দুল মোমিন নামে এক রিকশাজীবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সারাদিন রোজা রেখে রিকশা চালিয়ে যে আয় হয় তাতে সংসার চলে না। ইফতারের দোকানে যাওয়ার সাহস হয় না। ইফতার সামগ্রীর যে দাম তাকে আমাদের মতো গরীব মানুষের পক্ষে ইফতার কেনা সম্ভব নয়। এখানে বিনামূল্যে ইফতার করতে পেরে ভালো লাগছে।’