প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠি বিসিক শিল্প নগরী চালু ফ্যাক্টরী বন্ধ দেখিয়ে অন্যের নামে প্লট বরাদ্দ

Habibur-Rahman-Malek,-who-w

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির বিসিক শিল্প নগরীতে ৮ বছর ধরে চালু অবস্থায় থাকা মেসার্স রাশিদা নকশা এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাষ্ট্রিজ নামের একটি ফ্যাক্টরী বন্ধ দেখিয়ে ওই প্লটটি অন্য এক প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিসিক কর্মকর্তার চাহিদা পূরণ না করায় এবং নতুন বরাদ্ধ পাওয়া ব্যাক্তির কাছে প্রভাবিত হয়ে তার প্লটের বরাদ্ধ বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ব্যাবসায়ীর।

সরেজমিনে স্বরূপকাঠির কৌরিখাড়ায় অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় ২০১০ সালের ২৬ আগষ্ট ব্যাবসায়ী সেলিম বাহাদুর বিসিক শিল্প নগরীতে মেসার্স রাশিদা নকশা এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাষ্ট্রিজর নামে একটি প্লট বরাদ্দ পান। যার নং এ-০১ দক্ষিনাংশ জমির পরিমান ৭৫০০ বর্গফুট। বরাদ্দ পাওয়ার পরে ব্যাবসায়ী সেলিম ওই প্লটের জলাশয় নিজ খরচে ভরাট করে সেখানে ফ্যাক্টরী করে কর্যক্রম শুরু করেন। যা বর্তমান সময় পর্যন্ত চলমান রয়েছে। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন বিসিক কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র সরকার মেসার্স রাশিদা নকশা এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাষ্ট্রিজ বরাবরে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিলের নোটিশ দেন। ব্যাবসায়ী সেলিম বিসিক কর্মকর্তার কাছে নোটিশের কারণ জানতে চাইলে বিষয়টা তিনি সমাধান করবেন এটা নিয়ে অন্য কারও সাথে যোগাযোগ না করার জন্য বলেন। তিনি সেলিমকে কারখানা চালু রেখে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন ।

পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব বাসুদেব আচার্য্য শিল্প নগরী পরিদর্শনে আসলে ব্যাবসায়ী সেলিমসহ প্লট বরাদ্ধ বাতিল হওয়া ব্যাক্তিরা তার কাছে প্লট বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এসময় যুগ্ম সচিব তাদেরকে লিখিত আবেদন করতে বলেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারী সেলিম ও প্লট বাতিল হওয়া অন্য ব্যাক্তিরা বিসিক কার্যালয়ে এবং শিল্প মন্ত্রনালয়ে প্লট বরাদ্দ বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে অন্য সকলের প্লট বরাদ্দ বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করলেও অজ্ঞাত কারণে সেলিমের প্লট বরাদ্দ বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে সেলিম বর্তমান বিসিক কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কাগজে আপনার কারখানার কর্যক্রম বন্ধ দেখানো হয়েছে। তাই আপনার প্লটটি মেসার্স স্বরূপকাঠি গ্যাস স্টোভ এন্ড ফাউন্ড্রি এর নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ব্যাবসায়ী সেলিম অভিযোগ করে বলেন, পূর্বের বিসিক কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র সরকারের দাবীকৃত অবৈধ চাহিদা পূরণ না করায় কাগজে তার চালু কারখানাটাকে বন্ধ দেখিয়ে অন্য এক ব্যাবসায়ীর কাছে প্রভাবিত হয়ে তার প্লট বরাদ্দ বাতিল করে ওই ব্যাবসায়ীকে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। বিসিকে যুগ যুগ ধরে প্লট বরাদ্দ নিয়ে কোন রকমের ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান না করে আবাসিক বাসা তৈরি করে যারা ভাড়া তুলছেন তাদের প্লট বরাদ্দ বাতিল না করে অন্যায়ভাবে তার চালু অবস্থায় থাকা ফ্যাক্টরী বন্ধ দেখিয়ে তার প্লট বাতিল করা হয়েছে।

সরেজমিনে বিসিক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদকে সাথে নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় বিসিকে মেসার্স রাশিদা নকশা এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাষ্ট্রিজে শ্রমিকেরা কাজ করছে। এসময় কথা হয় পপুলার স্ব-মিলের সত্বাধীকারী সুলতান মাহমুদ ও ডিএল ইন্ডাষ্ট্রিজের কারিগর মো. কামাল হোসেন এর সাথে তারা জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে মেসার্স রাশিদা নকশা এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাষ্ট্রিজ এখন পর্যন্ত চালু রয়েছে এটা কখনও বন্ধ ছিল না।

এ ব্যাপারে বিসিক কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, তার পূর্বের অফিসার গোবিন্দ চন্দ্র সরকার দায়িত্বে থাকা কালীন ওই কারখানাটি বন্ধ দেখিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্লট বাতিলের প্রস্তাব করেন। সে কারণেই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই কারখানাটি চালু না কি বন্ধ জানতে চাইলে তিনি বলেন অফিসের কাগজপত্র অনুযায়ী কারখানাটি বন্ধ তবে তিনি গত তিন বছর ধরে এখানে কর্মরত অবস্থায় কারখানাটি ভাল ভাবেই চালু দেখছেন।