প্রধান সূচি

নাজিরপুরে গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ

Nazirpur_Pic_29_04_2018

পিরোজপুরের নাজিরপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে তিন সন্তানের জননী পারভীন আক্তার (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার বিকেলে উপজেলার শাখারীকাঠী ইউনিয়নের উত্তর চালিতাবাড়ী গ্রামে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন পারভীন আক্তার বলেন, ১৫ দিন আগে আমার মেয়ে আদুরীকে পাশর্^বর্তী তারাবুনিয়া গ্রামে বিবাহ দিয়েছি। তাকে তুলে দেয়ার খরচের জন্য আমার স্বামী আমাকে কয়েকদিন ধরে আমার পিতার বাড়ী থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে বলে। আমি আমার পিতার দারিদ্রতার কথা জানিয়ে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শনিবার বিকেলে আমার স্বামী আমাকে ঘরে আটকিয়ে মারধর করে। এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। প্রতিবেশীরা বিষয়টি আমার ভাই তরিকুলকে ফোনে জানালে সন্ধ্যার দিকে আমার পিতা ও তিন ভাই আমার স্বামীর বাড়ীতে আসে। তারা আমার স্বামীর নিকট আমাকে মারধর করার কারণ জিজ্ঞাসা করে এবং আমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চায়। তখন আমার স্বামী এখলাছসহ তার সহযোগী এসহাক শেখ, আইউব আলী শেখ, সিদ্দিক শেখ, নয়ন শেখ মিলে আমার পিতা ও ভাইদের মারধর ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। সংবাদ পেয়ে রাত ১০টার দিকে মাটিভাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে নাজিরপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পারভীন আক্তারের পিতা সুন্দর আলী জানান, ২২ বছর আগে পারভীনকে এখলাছ শেখের নিকট বিয়ে দিয়েছি। বিভিন্ন সময় টাকাও দিয়েছি। এখলাছ কারণে অকারণে আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করেছে। কালকে আমরা সংবাদ না পেলে ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলতো।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এখলাছ শেখের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে আমি শুধু আমার স্ত্রীকে মারধর করেছি। অন্য কাউকে মারধর করিনি।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তানভীর হাসান বলেন, পারভীন আক্তারের বাম পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মাটিভাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মিজানুর রহমান খান বলেন, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে আহতদের ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ব্যাপারে এখনও লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।