প্রধান সূচি

দুটি সিটিতেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে বিএনপি?

BNP-is-leaving-the-two-seat

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের মতোই খুলনা এবং গাজীপুর সিটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে বিএনপি। বিএনপির দায়িত্বশীল

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এই সরে যাওয়ার আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘এই নির্বাচন একটি প্রহসনে পরিণত হতে যাচ্ছে। দুই সিটিতেই বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানি, গ্রেপ্তার এবং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। প্রার্থীরা ঠিকমতো প্রচারণা করতে পারছে না। প্রশাসন সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। এই অবস্থায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব ব্যাপার।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ নেতা বলেছেন, ‘এই নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত। তাই বিএনপি শুধুমাত্র নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য অংশ নিতে পারে না।’

একাধিক সূত্র বলছে, এই দুটি সিটি নির্বাচনকে বিএনপি আন্দোলনের প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নির্দলীয় সরকারের দাবিকে আবার সামনে আনতে চায়। একই সঙ্গে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে এখন থেকেই নতুন করে শুরু করতে চায়।

অবশ্য অন্য একটি সূত্র বলছে, দুই সিটিতেই কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি। ভোটের মাঠে গিয়ে বুঝতে পারছে আওয়ামী লীগ এবার অনেক সংঘবদ্ধ। তাছাড়া এলাকার উন্নয়নের জন্য জনগণও এখন অনেক বেশি আওয়ামী লীগ মুখী। নির্বাচনে পরাজিত হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে সরকারের উপর দোষ চাপানোর কৌশল নিয়েছে।

বিএনপির নির্বাচন বর্জনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দলের কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে, খুলনায় মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রথমে নির্বাচন প্রচারণা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার নির্বাচন প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করলেও ৬ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী। এভাবে নানা ইস্যু সামনে আনতে আনতে এক পর্যায়ে খুলনায় বিএনপি সরে দাঁড়াতে পারে।

খুলনা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, গত দুইদিনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর প্রচারণাও কমে গেছে। জানা গেছে, বিএনপি প্রার্থী অর্থসংকটে ভুগছেন। ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে টাকা চেয়েও পাননি। কর্মীরা অর্থাভাবে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গা ছাড়া মনোভাবে হতাশ হয়ে পড়েছে।

একই অবস্থা গাজীপুরেও। গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের অভিযোগের তালিকা প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে। গাজীপুরের এসপি হারুনের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ প্রকাশ্য। কিন্তু এসব অভিযোগের মূল কারণ আসলে হতাশা। অন্তঃকলহে জর্জরিত বিএনপি। সাবেক মেয়র মান্নানের সমর্থকরা নির্বাচন প্রচারণা থেকে দূরে। হাসানউদ্দিন সরকারকে কেন্দ্র থেকে কোনো টাকা পয়সা দেওয়া হচ্ছে না।

এই দুই সিটি নির্বাচনেই ২০১৪ তে বিএনপি জয়ী হয়েছিল ভিন্ন বাস্তবতায়। আওয়ামী লীগের তীব্র কোন্দল এবং হেফাজতের ধর্মান্ধ প্রচারণায় ফসল ঘরে তুলেছিল বিএনপি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আওয়ামী লীগ দলের নূন্যতম কোন্দলকেও প্রশ্রয় দিচ্ছে না। এবার সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পও এখন পর্যন্ত নেই।

তাছাড়া এলাকার লোকজন মনে করছে, স্থানীয় নির্বাচনে বিরোধী দলকে ভোট দিলে কেবল উন্নয়নবঞ্চিত থাকতে হয়। সব বিবেচনায় ভোটের মাঠে জমাতে পারছে না বিএনপি।

যে কারণেই আগে থেকে নানা অজুহাতে নির্বাচন থেকে সরে এলে বিএনপির দু’ধরনের লাভ হবে। প্রথমত, পরাজয়ের গ্লানি থেকে বাঁচবে। বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে, এই বার্তাটা জনগণের কাছে যাবে না। দ্বিতীয়, এটাকে ইস্যু করে বিএনপি একটা বড় আন্দোলন গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। দাতা দেশগুলো ইতিমধ্যেই এই দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কাজেই তাদের কাছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে যৌক্তিকতা প্রমাণের একটা উদাহরণ পাবে বিএনপি।