প্রধান সূচি

বজ্রপাতে বাবা-ছেলেসহ ৯ জনের মৃত্যু

9-people-died-including-lig

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও কামারখন্দ এবং শাহজাদপুরে বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বজ্রপাতে মাগুরার অক্কুর পাড়া, রায়গ্রাম ও শালিখায় তিনজন এবং নোয়াখালীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকালে এসব ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জে নিহতরা হলেন কাজিপুরের ডিগ্রি তেকানী গ্রামের মৃত পরেশ মন্ডলের ছেলে শামছুল মন্ডল (৫৫), শামছুল মন্ডলের ছেলে আরমান (১৪), কামারখন্দের পেস্তককুড়া গ্রামের মৃত আহের মন্ডলের ছেলে কাদের হোসেন (৩৭), শাহজাদপুর পৌর সদরের ছয়আনি গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে পলিন (১৭) ও একই গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে নাবিল (১৭)।

কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ জানান, রোববার সকালে ডিগ্রি তেকানী চরে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাদাম তুলছিলেন শামছুল। এ সময় বজ্রপাতে দুজনই ঝলসে যান। পরে তাদের উদ্ধার করে কাজিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে দুজনেরই মৃত্যু হয়।

অপরদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামারখন্দ উপজেলার পেস্তককুড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে বজ্রপাতে কাদের হোসেন (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আহের মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, কৃষক কাদের হোসেন বাড়ির পাশেই নিজের ক্ষেতের ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই বজ্রপাত হলে তার শরীর ঝলসে যায়। তাকেও উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মারা যান।

কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিলা বেগম বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে খেলাধূলার সময় পলিন ও নাবিল নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সাব্বির নামে আরেক কিশোর আহত হয়েছে। তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতের ঘটনার পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহেলি লাইলা নিহত দুই কিশোরের পরিবারকে ১০ হাজার করে টাকা দিয়েছেন।

অন্যদিকে মাগুরা সদর থানার এসআই আশরাফ হোসেন জানান, সদরের অক্কুর পাড়ায় বজ্রপাতে নিহত ব্যাক্তির নাম শামীম। তিনি পেশায় ভ্যান চালক। সকালে বৃষ্টির সময় তিনি ভ্যান চালিয়ে মাগুরা থেকে শ্রীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। সদরের রায়গ্রামে বজ্রপাতে নিহত অপর ব্যাক্তির নাম আলম। তিনি সদর উপজেলার ব্লুগ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। মাগুরা থেকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি বজ্রপাতের শিকার হন।

এছাড়াও জেলার শালিখার উপজেলার বুনাগাতী এলাকায় একটি মোবাইল টাওয়ারে কাজ করার সময় মেহেদী নামে এক যুবক বজ্রপাতের শিকার হন। তিনি জয়পুরহাট জেলার মনপুরা এলাকার আলম মিয়ার ছেলে। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষিত পাল মেহেদীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বশিরার দোকান এলাকায় খেলার মাঠে বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়।

নিহত হাসনাত পিয়াল (১৩) ওই ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। সে নোয়াখালী জেলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

হাসনাতের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবা সোহেল রানা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।