প্রধান সূচি

মাদারীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইউপি সদস্য নিহত

Madarepur

মাদারীপুরের কালকিনিতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউপি সদস্য খবির মৃধা (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন আরও তিনজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ভাদুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিদের গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম জানা যায়নি। নিহত খবির মৃধা বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ভাদুরী গ্রামের নুরু মৃধার ছেলে। তিনি বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাঁশগাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সদস্য খবির মৃধার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ইউপি সদস্য খবির মৃধার সমর্থকেরা চেয়ারম্যানের সমর্থক মিরাজ ঘরামিকে (২৫) রাস্তা থেকে তুলে আনে। তারা মিরাজের হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুটি পক্ষ। এতে বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে বোমার আঘাতে ইউপি সদস্য খবির মৃধা নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবির মৃধার ভাই কবির মৃধা বলেন, ‘এলাকায় গন্ডগোলের কথা শুনে আমার ভাই বাইরে বের হন। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন আমার ভাইকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। তাদের বোমার আঘাতেই মারা যান আমার ভাই। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য যাঁরা দায়ী, আমি তাঁদের বিচার চাই।’

বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘ইউপি সদস্য খবিরের লোকজন আমাদের এক সমর্থককে তুলে এনে হাত–পা কেটে দিয়েছে। এরপর তারা আমাদের ওপর হামলা করতে এলাকায় জড়ো হয়। পরে তারা আমাদের লোকজনকে লক্ষ্য করে হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় খবির বোমা নিক্ষেপ করতে গেলে নিজের হাতেই তাঁর বোমটি বিস্ফোরণ হয়। এতে তিনি নিহত হন। আমাদের কোনো লোক তাঁর ওপর হামলা করেনি।’

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মল্লিকা সাহা বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে বরিশাল পাঠানো হয়েছে। তাঁর পায়ের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং হাতের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ক্ষত রয়েছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বজরুল আলম মোল্লা বলেন, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। আজকের ঘটনাও একই সূত্রে গাথা। বোমার আঘাতে ওই ইউপি সদস্য খবির মৃধা মারা গেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সূত্রঃ প্রথমআলো