প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় ভুয়া এতিমের নামে বরাদ্দ না দেওয়ায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পিটিয়ে জখম

Pirojpur-03-06-18

ভুয়া এতিমের নামে সরকারি বরাদ্দের টাকা না দেওয়ায় আজ রোববার পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আখলাকুর রহমানকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনার জেরে উপজেলার বড়হারজী গ্রামে হাজী গুলশান আরা শিশুসদনের সভাপতি আবদুল গফফার (৬০) ও এতিমখানার শিক্ষক মোস্তফা মাহামুদকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।

আহত সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আখলাকুর রহমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে উপজেলার বড়হারজী গ্রামের আবদুল গফফার হাজী গুলশান আরা শিশুসদন নামে একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ে ২০২ জন এতিম দেখিয়ে ১০১ জন এতিমের নামে বছরে ১২ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ অনুমোদন করান। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জি এম সরফরাজের কাছে ভুয়া এতিম দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন বড়হারজী গ্রামের আলতাফ মাহামুদ। ইউএনও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ হাওলাদারকে বিষয়টি তদন্তের ভার দেন। তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে এতিম খানায় ৪১ জন এতিম পান এবং বর্ধিত বরাদ্দ বাতিলের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

এরপর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওই তদন্ত প্রতিবেদনসহ এতিমখানার বর্ধিত বরাদ্দ বাতিলের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠান। রোববার সকালে গত ছয় মাসের সরকারি বরাদ্দের ছয় লাখ টাকার বিল নিয়ে এতিমখানার শিক্ষক মোস্তফা মাহামুদ সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আখলাকুর রহমানের কাছে যান। তিনি ওই বিল ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বেলা তিনটার দিকে এতিমখানার সভাপতি আবদুল গফফার সমাজসেবা কর্মকর্তাকে টাকা ছাড় দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে তিনি রাজি না হলে গফফার ও মোস্তফা মাহমুদসহ পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তার ওপর হামলা করেন। এ সময় সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারীরা গফফার ও মোস্তফা মাহামুদকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। বাকিরা পালিয়ে যান।

আহত সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আখলাকুর রহমান বলেন, ‘এর আগে ওই এতিমখানায় ৭৬ জন এতিমের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল। এরপর ১০১ জনের বরাদ্দ করান। তদন্ত করে দেখা গেছে, ভুয়া এতিম দেখিয়ে এতিমদের নামে বরাদ্দ টাকা তাঁরা আত্মসাৎ করেন। অবৈধ বিল আমি অনুমোদন না দেওয়ায় হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি।

মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল আমিন বলেন, এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সরকারি কর্মকর্তার দপ্তরে ঢুকে তাঁকে মারধরের ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান ইউএনও জি এম সরফরাজ।