প্রধান সূচি

ব্রাজিলকে শেষ আটে নিয়ে গেলেন নেইমার

‘ভাঙা দুটি পায়ে জয়ের ভাগ্য লুটিয়া আনিল আজি’। পল্লি কবি জসিমউদ্দিন তার ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ কবিতার লাইন। মেসের ইমদাদ ভাইয়ের ভাঙা পা নিয়ে ম্যাচ জয়ের কাহিনী নিয়ে লিখেছিলেন। এবার ‘ভাঙা পা’ নিয়ে এক গোল করে এবং ফিরমিনোকে দিয়ে দারুণ এক গোল করিয়ে জয় ছিনিয়ে নিলেন নেইমার। তাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে সেলেকাওরা। চলে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

দ্বিতীয় রাউন্ডের পঞ্চম ম্যাচে রাশিয়ার সামারায় প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে আটকে দেয় মেক্সিকো। কোন দল গোল করতে না পারায় গোল শূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে নেইমারের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এরপর ম্যাচের ৮৮ মিনিটে নেইমারের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন ফিরমিনো। ব্রাজিল-মেক্সিকোর মধ্যে যারা জিতবে তারাই চলে যাবে শেষ আটে। মেক্সিকো সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে শেষ আটে উঠেছিল। এরপরের সবকটি আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডে গেছে মেক্সিকো। কিন্তু শেষ আটে আর যেতে পারেনি।

অন্যদিকে ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপের দুঃস্মৃতি ভুলতে রাশিয়া এসেছে। নকআটউ পর্ব উতরে শেষ আটে যেতে তাদের হারাতে হবে মেক্সিকোকে। হেক্সা মিশনের জন্য তারা কতটা প্রস্তুত তা এই ম্যাচে বোঝা যাবে।

প্রথমার্ধে মেক্সিকো ব্রাজিলের গোল মুখে ভালো কিছু আক্রমণ করে। চাপে ফেলে দেয় ব্রাজিলকে। কিন্তু সে চাপ বেশিক্ষণ নিজেদের ওপরে রাখতে দেয়নি ব্রাজিল। পরক্ষণেই মেক্সিকোর গোলে ভালো কিছু আক্রমণ করে সেলেকাওরা। কিন্তু গোল হতে দেননি মেক্সিকো গোলরক্ষক ওচোয়া।

দুই মিনিটের মাথায় প্রথম আক্রমণ করে মেক্সিকো। এরপর ৫ মিনিটের মাথায় আক্রমণ করে ব্রাজিল। কিন্তু ২০ গজ দুর থেকে নেইমারের মারা শট ঠেকান মেক্সিকো গোলরক্ষক। ২২ মিনিটের আক্রমণ আবার ছিল মেক্সিকোর। ফাগনারকে কাটিয়ে ঢুকে পড়ে মেক্সিকো। কিন্তু গোলবারে যায়নি তাদের আক্রমণ। ২৫ মিনিটে আবার নেইমারের শট ঠেকান মেক্সিকো গোলরক্ষক। ৩২ মিনিটে কৌতিনহোর শটনি বাইরে দিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ বাঁশির আগে শেট আক্রমণ করেন জেসুস।

ম্যাচে অবশ্য মেক্সিকো বল দখলের প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলের সমানে সমানে ছিল। ব্রাজিলের ৫২ ভাগ বল দখলের পাশাপাশি তারা ৪৮ ভাগ বল পায়ে নিয়ে খেলেছে। ব্রাজিল গোলে শট নিয়েছে আটটি। তার মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে এবং পাঁচটি গোলের বাইরে। অন্যদিকে মেক্সিকোর গোলে শট ছিল দুইটি। তবে কোন শট তারা লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।