প্রধান সূচি

বদনাম যেন না হয়: নেতাকর্মীদের হাসিনা

Awami-League

সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে যেন ‘বদনাম’ না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের আগে এ নির্দেশ দেন তিনি।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যেহেতু জাতীয় নির্বাচন সামনে সেজন্য এই ইলেকশনগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে কোনো রকম বদনাম যাতে না হয়, কোনো রকম কোন্দল যাতে না হয়। সবাই মিলে একসাথে কাজ করবেন, যেন জয়ী হয়ে জনগণের জন্য কাজ করতে পারি।”

সভায় মেয়র পদে রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সিলেটে বদরুদ্দিন আহমদ কামরান এবং বরিশালে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

লিটন-কামরান দুজনই সাবেক মেয়র; রাজশাহী ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আছেন তারা। আর বরিশালে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে।

এদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগের ওই বক্তব্যে নেতাকর্মীদের প্রতি দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটা মনে রাখতে হবে। সেখানে সবাই একসাথে কাজ করবেন।ভোটারদের বিশ্বাস, ভোটারদের বিশ্বাস অর্জন করা- এটাই সব থেকে বড়, সব থেকে বেশি প্রয়োজন।

“আমাদের নেতাকর্মী যে যেখানে আছে, কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সে সিদ্ধান্তে এক হয়ে কাজ করবে।”

দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, “একজন করেই আমাদের নমিনেশন দিতে হবে। যোগ্যতার দিক থেকে কেউ কম যায় না। তবে পার্টির ইমেজ যেন থাকে।”

যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “এই ইলেকশনগুলো আমরা হারলে আমাদের সিট চলে যাবে বা আমরা ক্ষমতা হারাব, তাও না। কিন্তু হারলে একেবারে আমাদের ইজ্জত চলে যাবে সেটাও না। আবার জিততে যেয়ে আমাদের কোনো রকম বদনাম যেন না হয়।

“বিএনপির ১৫ ফেব্রুয়ারি বা মাগুরা মার্কা যেন না হয়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলাটা সব দলের জন্য প্রযোজ্য।

“এটা শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়। যে দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে… সেটা হলে আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে নাI কারণ আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাটাকে শক্তিশালী করতে চাই।”

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “মানুষের কাছে যেতে হবে। আমরা যে উন্নয়নটা দেশের জন্য করেছি, সেটা বারবার মানুষকে বলতে হবে, জানাতে হবেI

“সবাই নমিনেশন পাবেন না, এটা ঠিক। সুযোগ তো সকলের সামনে আসবে, কখনও না কখনও।”

শনিবার আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নতুন কার্যালয় উদ্বোধন হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, “সেন্ট্রাল আওয়ামী লীগ অফিস আমরা নির্মাণ করেছি। আওয়ামী লীগকে আমরা একটা ইনস্টিটউটের মতো গড়ে তুলতে চাই।এমন একটা প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠান আমরা মূলত স্বাধীনতাই এনে দেই নাই, এই দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়েনর জন্য তিনি এই দেশ স্বাধীন করেছিলেনI

“আওয়ামী লীগ এই দেশের মানুষের জন্য যে কাজগুলো করে যাবে সেজন্য একটা অফিস একান্তভাবে দরকারIসেই দিকে চিন্তা করেই এত বছর পরে…এই ৬৯ বছর পরে আমরা একটা ভালো অফিস করেছিI কালকে আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেই অফিসটাও আমরা উদ্বোধন করবI”

তিনি বলেন, “বাঙালি জাতি আজ যতটুকু পেয়েছে তা আওয়ামী লীগই দিয়েছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্ব অনেক বেশি। আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতা-কর্মীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবেI

“আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক শক্ত আর গভীরে, সেই কথাটা মনে রেখেই কাজ করবেন।”