প্রধান সূচি

ফ্ল্যাট দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা নিয়ে উধাও নাজিরপুরের রেবতী মন্ডল

নতুন ফ্ল্যাট দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নয়জনের কাছ থেকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছে রেবতী কুমার মন্ডল নামে এক প্রতারক। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ১নং মাটিভাঙ্গা ইউনিয়েনের উত্তর বানিয়ারী গ্রামের মহেন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করলে দুটি মামলায় রেবতী মন্ডলের এক বছর করে কারাদন্ডসহ ৯০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। যারা প্রতারনার শিকার হয়েছেন তাদের অনেকেই নাজিরপুর উপজেলার মানুষ হওয়ায় সরল বিশ্বাসে তারা রেবতী মন্ডলের প্রতারনার ফাঁদে পড়েছেন।

তাদের মধ্যে একজন ঢাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী কলেজের অবসর প্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল শ্রী গৌরীপ্রসন্ন চক্রবর্তী। দু’বার স্ট্রোকের পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। ঘরে দু’টি বিবাহযোগ্যা মেয়ে। অর্থাভাবে অথৈ সাগরে সাঁতার কাটছেন তার স্ত্রী অপর্ণা দেবী। শিক্ষকতা পেশা শেষ করে পেনশনের যে টাকা পেয়েছিলেন, সরল বিশ্বাসে তা তুলে দিয়েছিলেন ডেভেলপার রেবতী কুমার মন্ডলের হাতে। রেবতী মন্ডল তাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, বাজারদরে অতি অল্প সময়ে তাদেরকে ঝকঝকে নতুন ফ্ল্যাট দেয়া হবে। একই স্বপ্নে বিভোর হয়ে তার সাথে আরো যুক্ত হয়েছিলেন- অধ্যাপক স্বপন কুমার মিত্র, প্রকৌশলী বিপুল কৃষ্ণ সূতার, সুবোধ চন্দ্র ঢালী, অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়, ডা: বিশ্বনাথ ঘোষ, শ্রী অসীম কুমার বসু, শ্রী ভজন চন্দ্র দাস, শ্রী রনজিৎ কুমার শীল।

সমচিন্তা-চেতনার এই মানুষ গুলো জীবনের শেষ প্রান্তে এসে স্বপরিবারে একই ভবনে থাকার স্বপ্ন নিয়ে একত্রিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের শুরু থেকে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ সরল বিশ্বাসের সুযোগে কোন রসিদ বা চুক্তিপত্র ছাড়াই রেবতী মন্ডল নিয়েছেন এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। ফ্ল্যাটের কোন কাজ না করেই সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাত করে তিনি এখন লাপাত্তা। ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় আদালতে মামলাও করেছেন। আদালতের দেয়া গ্রেফতারী পরোয়ানা নাজিরপুর থানা পুলিশের হাতেও পৌছেছে কিন্তু এ পর্যন্ত রেবতী মন্ডলকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এখন বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীরা খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রতারক রেবতী মন্ডলকে।

আজ শুক্রবার দুপুরে নাজিরপুর প্রেসক্লাবে কথা হলে এমন চিত্র তুলে ধরেন প্রতারণার শিকার প্রফেসর স্বপন কুমার মিত্র। স্বপন মিত্র বলেন, প্রতারক রেবতী তাদের ন’জনের কাছ থেকে মোট এক কোটি ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে লালবাগ রিয়েল এস্টেটের কোন অফিস, জনবল, সাইনবোর্ড কিছুই নাই। তিনি জানান, ঢাকার রায়েরবাজারের হাশেম খান রোডস্থ কোম্পানীর কথিত ফ্লাট প্রকল্প ‘লালবাগ সুকুল প্যালেস’-এ একখ- উন্মুক্ত খোলা জমি ছাড়া কিছুই দেখা যাবে না। আমরা রেবতীর বড়ভাই অজিত মন্ডলের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ফ্লাটের নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে করিয়ে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর দিয়ে আরো ছয় লক্ষ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ করাননি। টাকাগুলো বেহাত হয়েছে। রেবতী এখন পলাতক।

আরেক ভুক্তভোগী সুবোধ ঢালী জানান, উভয় পক্ষের হিতৈষী বন্ধু-বান্ধব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের তত্ত্বাবধানে ভুক্তভোগী ন’জন ও রেবতী কুমার মন্ডল ২০১৬ সালের ১২ মে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে স্বীকারোক্তিমূলক এক আপোষনামা সম্পাদক করে দেন। সেখানে তিনি ওই বছরের ১০ জুলাই ৫০ লাখ টাকা, ১১ সেপ্টেম্বর ৩০ লাখ এবং ১৩ নভেম্বর ৩৪ লাখ টাকার তিনটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু উক্ত চেকের বিপরীতে টাকা তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যোগাযোগ করলে অপর্যাপ্ত জমা থাকার কারণে তিনটি চেকই বাউন্স করেছে। তিনি আরো জানান, তারা এ ঘটনায় ঢাকা জজকোর্টে চেক বাউন্সিংয়ের তিনটি মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে দু’টি মামলার রায়ে রেবতী মন্ডলের এক বছর করে কারাদন্ডসহ ৯০ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে। ওই মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা নাজিরপুর থানায় মুলতবী রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রেবতী মন্ডল ও তার ভাই অজিত কুমার মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, রেবতী মন্ডলের নামে দুটি গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার তার বাড়ীতে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।