প্রধান সূচি

পিরোজপুরে লঞ্চের ধাক্কায় পা হারিয়েছে ট্রলার শ্রমিক, জীবন নিয়েও সংশয়

Pirojpur-Pic-12

পিরোজপুর থেকে ঢাকাগামী অগ্রদূত প্লাস লঞ্চের ধাক্কায় পা হারিয়েছেন এক ট্রলার শ্রমিক। বর্তমানে তার জীবন নিয়েও রয়েছে সংশয়। আজ মঙ্গলবার বিকেলের দিকে কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে আমড়াঝুড়ি ফেরি ঘাটের নিকটবর্তী এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

হতভাগ্য হাইয়ুম (৩২) জেলার নাজিরপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে। সে ট্রলারের চালক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত হাইয়ুমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওই ট্রলারে থাকা কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, আল্লাহর নেয়ামত নামের একটি লোহার তৈরি ট্রলারে করে মঠবাড়িয়া থেকে কাঠ বোঝাই করে নেছারাবাদের কাঠ বাজারে যাচ্ছিল। তাদের ট্রলারটি কাউখালীর সন্ধ্যা নদীর আমড়াঝুড়ি ফেরি ঘাট অতিক্রম করার পর, পিরোজপুরের হুলারহাট থেকে ছেড়ে আশা দ্রুত গতির অগ্রদূত প্লাস লঞ্চটি সজোড়ে কাঠ বোঝাই ট্রলারটির পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে নিমিষেই ঘটনাস্থলে ট্রলারটি ডুবে গেলে সেটির উপর দিয়েই লঞ্চটি চলে যায়। এ সময় নদীতে ঝাপ দিয়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনা থেকে সালাম রক্ষা পেলেও, নদীতে তলিয়ে যায় হাইয়ুম। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় অচেতন অবস্থায় হাইয়ুমকে উদ্ধার করেন সালাম। নদী থেকে তীরে তুলেই দেখেন তার বাম পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন। তাৎক্ষণিক তাকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশালে পাঠানো হয়।

হাইয়ুমের কোমড়েও প্রচন্ড আঘাত রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেদি হাসান। ঢাকা থেকে ঈদের যাত্রীদের আনার জন্যই ট্রলারটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জমান তালুকদার।