প্রধান সূচি

নাজিরপুরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে পুলিশে চাকরি, দু’জন কারাগারে

Nazirpur-pic

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার দুইবছর পরে স্ব-স্ব কর্মস্থল থেকে পুলিশের দুই কনস্টেবল গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। ২০১৬ সালে তারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে পিরোজপুর থেকে পুলিশ কনেস্টবল পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। পরে নিয়মানুযায়ি প্রশিক্ষণ শেষে তারা উভয়ই বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশে যোগদান করেন।

ওই দু’জন হলেন, উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চর মাহামুদকান্দা গ্রামের জাকির মোল্লার মেয়ে রুশিয়া আক্তার (২০) ও একই গ্রামের দায়জাল মোল্লার ছেলে শরিফুল ইসলাম মোল্লা (২০)।

এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মহর আলী সরদার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান পূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অবহিত করেন। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ ঘটনায় পিরোজপুর জেলা পুলিশের আরও উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরে ওই দুই কনেস্টবলকে তাদের কর্মস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে আজ বুধবার সকালে উপজেলার চর মাহামুদকান্দা গ্রামে গেলে কথা হয় আটককৃত পুলিশ কনেস্টেবল শরিফুল ইসলামের মা কল্পনা বেগম ও নারী কনেস্টেবল রুশিয়া আক্তারের মা রঞ্জিলা বেগমের সাথে তারা জানান, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বারাসিয়া গ্রামের নোয়াবআলীর ছেলে নান্নু মিয়া তাদের ছেলে-মেয়েকে পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দু’জনের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নিয়েছে। বিনিময় দুই জনের পিতাকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ বানিয়ে এনে চাকরি দিয়েছে। রঞ্জিলা বেগম ও কল্পনা বেগম আরো জানান, তাদের কারোই স্বামী মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। আর মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। চাকরির আশায় সর্বশেষ সম্বল জমি বিক্রি করে প্রতারক নান্নু মিয়াকে টাকা দিয়ে চাকুরি নিয়েছিলো।

পিরোজপুর সদর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন জানান, এ ঘটনায় জেলা পুলিশের আরও উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই কনেস্টবলকে তাদের কর্মস্থল থেকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।