প্রধান সূচি

নাজিরপুরে গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

Court verdict

পিরোজপুরের নাজিরপুরে যৌতুক না পেয়ে নিপা নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূর পিতা। গত ২৭ আগস্ট ওই গৃহবধূর পিতা সুনীল চন্দ্র বাওয়ালি বাদী হয়ে পিরোজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নিহত নিপার সিঙ্গাপুর প্রবাসী স্বামী সুব্রত মৃধাসহ তার পরিবারের ৬ জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলো- নাজিরপুর উপজেলার গড়ঘাটা গ্রামের সুজন মৃধা, মুকুল রানী মৃধা, সুখরঞ্জন মৃধা এবং জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার কালাইয়া গ্রামের কৃষ্ণ ডাকুয়া ও সুমা ডাকুয়া। আদালতের বিচারক আবেদনটি শুনানি শেষে নাজিরপুর থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ মে জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ইন্দুরকানী গ্রামের সুনীল চন্দ্র বাওয়ালির মেয়ে নিপা বাওয়ালি ওরফে মোহিনীর সঙ্গে নাজিরপুর উপজেলার গড়ঘাটা গ্রামের সুখরঞ্জন মৃধার ছেলে সুব্রত মৃধার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুব্রত মৃধাকে তার শ্বশুর বিদেশ যাওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকা দেন। বিয়ের ৬মাস পরে সুব্রত মৃধা সিঙ্গাপুর চলে যাওয়ার পর নিপার শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদসহ অন্য আসামিরা আবারও নিপার পিতার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় তারা নিপাকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে। গত ১৪ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে সুব্রত মৃধা দেশে ফিরে এসে অন্য আসামিদের প্ররোচনায় নিপাকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে এবং নির্যাতন শুরু করে, যা মোবাইল ফোনে নিপা তার বাবা সুনীল চন্দ্র বাওয়ালিকে জানিয়েছে। যৌতুক দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে গত ২৩ আগস্ট নিপাকে আসামিরা শারীরিক নির্যাতন করে। নিপার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার মুখে কীটনাশক দিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করেছে বলে প্রচার করে এবং ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিপাকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

নিপার মা উষা রানী বাওয়ালি সাংবাদিকদের বলেন, নির্যাতনের কথা নিপা মোবাইলের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছে। কিন্তু আমার মেয়েকে ওরা বাঁচতে দিলনা। আমরা এর বিচার চাই। আমার মেয়ের মৃত্যুর সংবাদও ওরা আমাদের জানায়নি। প্রতিবেশীরা আমাদেরকে খবর দিয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ওদের এলাকায় গেলে ওরা আমাদের বলে চালের পোকা মারার ঔষধ খেয়ে নিপা মারা গেছে।

তিনি আরো জানান, নিপাকে মারধর করার পর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে চালের পোকা মারার ঔষধ খাওইয়া মারা হয় তাকে।। এরপর রাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়। নিপা যদি আত্যহত্যা করে থাকে তবে জামাই সুব্রত কেন লাশের সাথে শশুর বাড়ি আসেনি।

নাজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল সারোয়ার জানান, ওই দিনই এ ঘটনায় নাজিরপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয় এবং নিপার লাশ ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া পিরোজপুর নারী ও শিশু নির্যাতনদমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার আদেশের কোনো কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদেশের কপি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।