প্রধান সূচি

এ এক অভূতপূর্ব প্রেম কাহিনী!

prem-kahini-amdadul

মোবাইল বা ফেসবুকের যুগ তখন ছিল না। সময়টা ১৯৯৬-৯৭ হবে। তখনো মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির শুধুই দৃষ্টি বিনিময়ের সম্পর্ক । মনের কথা একে অপরকে বলা হয়নি কারো। অব্যক্ত হৃদয়ের বোঝা বয়েই কাটছিল তাদের সময় ।

“প্রেম” আর “গন্ধ” কভু লুকিয়ে রাখা যায় না। এই ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। মেয়েটির প্রতি বন্ধু’র দুর্বল হৃদয়ের ধুকধুক ধ্বনি আর প্রেমাতুর চাহনি; দৃষ্টি এড়াতে পারেনি আমাদের। অস্বীকারও করেনি সে। মেয়েটিরও আমাদের সঙ্গে কথা বলায় সাবলীলতা আর বন্ধু’র বেলায় আড়ষ্টতা; উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল অনেক প্রশ্নের-ই !

এভাবেই চলে গেল প্রায় পাঁচ-ছয় বছর। মনের আদান প্রদান হয়ে গেলেও মুখের আড়ষ্টতা কাটেনি তখনও তাদের । তার কোনো লক্ষণও লক্ষণীয় ছিল না।

আমন্ত্রণ না পেলেও, প্রতি ঈদেই বন্ধু বহর নিয়ে নিমন্ত্রিত হতে চলে যেতাম মেয়েটির বাড়ি । এটি অনেকটা যেন অবধারিতই হয়ে গিয়েছিল। তাদের কাছাকাছি আসা বলতে ছিল শুধু এই সময়টাই। যদিও তখনও পরস্পরকে কভু বলতে পারেনি- “ভালবাসি”।

ভয়ঙ্কর অবস্থা দাড়লো তখন; যখন মেয়েটি একেরপর এক তার ভাল ভাল বিয়ের প্রস্তাব গুলি ফিরিয়ে দিচ্ছিল। এদিকে ছেলেটি তখনও ছাত্র । লেখাপড়া শেষ হতেও বিস্তর সময় বাকি। তাছাড়া মেয়েটির সঙ্গেও নেই সরাসরি কোন কমিটমেন্ট। চরম উৎকন্ঠা আর উদ্বিগ্নে পরিবার। কারণ, কোন ভাই না থাকলেও মেয়েটির প্রায় বিবাহযোগ্যা দুটি ছোট বোন ছিল। ক্রমান্বয়ে মেয়েটির পাশাপাশি অনিশ্চিত অন্ধকার দেখা দিচ্ছিল তাদের ভবিষ্যত ভাবনাতেও!

উদ্যোগী হলাম আমরা বন্ধুরাই। দুজনের প্রথম বারের মতো একান্তে দেখা করার ব্যবস্থা করা হলো ময়মনসিংহ বোটানিক্যাল গার্ডেনে। সে দিনই তারা বিশ্ব জয় করে, একে অপরকে বলতে পেরেছিল “ভালবাসি” ! বিনিময় করেছিল সুবাসিত গোলাপ। হাতে হাত রেখে প্রতিজ্ঞা করেছিল- শত ঝড় ঝঞ্ঝাতেও একজন আরেকজনকে ছেড়ে না যাবার।

না। তারা কেউ কাউকে ছেড়ে যায়নি। প্রতিকূল বাস্তবতার সঙ্গে আরও প্রায় চার বৎসর কঠিন লড়াই করতে হলেও, শেষ পর্যন্ত দু’জনই কথা রেখেছিল। তারা এখন সুখী দম্পতি। এক মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে সুখের রাজ্যের রাজা-রাণী।

আজ সেই প্রিয় বন্ধু এমদাদ আর স্নেহাস্পদ ছোট বোন রুনা’র বিবাহিত জীবনের একযুগ পূর্তির মহেন্দ্রক্ষণ। আত্মা+হৃদ্যতা+বিশ্বস্ততা মিলে হয় বন্ধুতা। এমদাদ আমার জীবনে তার থেকেও বিশেষ কিছু।

পরিণয়ের এক যুগ পূর্তিতে তোদের জন্য একরাশ শুভেচ্ছা, শুভাশীষ, শুভ কামনা এবং অভিনন্দন অবিশেষ…

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)