প্রধান সূচি

এমপি আউয়াল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিষাদাগার করলেন দলীয় নেতারা

Nazirpur_Pic_21_06_18

পিরোজপুরের নাজিরপুরে আওয়ামী লীগের এক জন সভায়দলীয় পিরোজপুর-১ আসনের সরকার দলীয় এমপি আউয়াল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিষাদাগার করলেন আ’লীগের নেতারা।

গত বুধবার বিকেলে উপজেলার শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের ভাইজোড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাহেদ আলী ফকির। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুর-১ (নাজিরপুর,নেছারাবাদ ও পিরোজপুর সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ এ্যানী রহমান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা পরিচয়ে বক্তব্য রাখেন শেখ এ্যানী রহমানের স্বামী ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান টোকন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এ সরকারের ৯ বছরের শাসনামলে সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এ উপজেলার পার্শ্ববর্তী টুঙ্গিপাড়া ও চিতলমারীর কোথাও মাটির বা ভাঙ্গা রাস্তা নেই। সর্বত্র জীপ গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু নাজিরপুরে পাকা রাস্তা নেই বললেই চলে। কোথাও কোন উন্নয়ন হয়নি। এ সময় তিনি জেলা আ’লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি একেএমএ আউয়ালকে ইঙ্গিত করে বলেন, এ সরকারের সময় তার সহায়তায় (এমপি) উন্নয়ন হয়েছে বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় পার্টি থেকে আসা হাইব্রীড নেতাদের। জন্ম থেকে যারা আ’লীগের সাথে জড়িত তাদেরকে দলীয় পদ না দিয়ে বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় পার্টি থেকে আসা লোকজনকে দলের বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ন স্থানে বসানো হয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি (শেখ এ্যানী) এখানে নৌকার প্রচারনায় এসেছেন।

জসসভায় টুঙ্গিপাড়ার পৌর মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মির্জা বলেন, এমপি আউয়াল নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি হয়েও তিনি ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে ভালো না বেসে আনারস প্রতীককে ভালোবেসেছেন। তাইতো গত ইউপি নির্বাচনে আমি (আহম্মেদ মির্জা) এখানে এসে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেছি। এই ভাইজোড়া কেন্দ্রের স্থাগিত হওয়া নির্বাচনে শতভাগ ভোট কাষ্ট করিয়েছি। অনুষ্ঠানে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পিরোজপুর আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট সরদার ফারুক আহম্মেদ বলেন, “এমপি আউয়াল ও তার পরিবার পিরোজপুরকে একটি সন্ত্রাসের জনপদে রুপান্তরিত করেছেন। তিনিসহ তার ৩ভাই গায়ের জোরে দলীয় গুরুত্বপূর্ন পদসহ বিভিন্ন স্থান দখল করে আছেন। তার মেঝো ভাই পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক বিনা ভোটে মেয়র হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে গিয়ে একজন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। ভোট কেটে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছে সেঝো ভাই মুজিবর রহমান খালেক। আর ছোট ভাই মশিউর রহমান মহারাজ ব্যাবসায়ী না হয়েও পিরোজপুর চেম্বারের সভাপতি ও কোন বাস না থাকা সত্বেও বাস মালিক সমিতির সভাপতি হয়েছেন। তাদের পরিবারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রান হারিয়েছেন ৫ জন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছলেমান বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আ’লীগ যুগ্ম সম্পাদক মো. এমদাদুল হক বিশ্বাস, পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মাকসুদুল ইসলাম লিটন প্রমুখ। এ সব অভিযোগের বিষয় এমপি আউয়ালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে। আমার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে দলীয়সহ সামাজিক অবস্থান পেয়েছেন। এখানে আমার কোন হাত নেই।