প্রধান সূচি

একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে: জায়েদ খান

Pirojpur-18-06-18

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান বলেছেন, “শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। পিরোজপুরে বড় ভাইয়ের সাথে একটি ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়েও আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে আমি বিন্দুমাত্র জড়িত নই।”

তিনি বলেন, একজন চিত্র নায়ক হতে অনেক সাধনা করতে হয়েছে, অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আর আমি চিত্র নায়ক হয়ে, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়ে আমার জন্মভূমি পিরোজপুরকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে পেরেছি বলে মনে করি। গর্ভের সাথে বলি আমি পিরোজপুরের সন্তান। কিন্তু যারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে তারা শুধু আমাকে নয়, পিরোজপুরকে সবার কাছে হেয় প্রতিপন্ন করছে।

পিরোজপুর প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জায়েদ খান। আজ সোমবার রাত ৮টায় পিরোজপুর প্রেসক্লাবের শহীদুল আলম নিরু মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পিরোজপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শফিউল হক মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় পিরোজপুর জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চিত্র নায়ক জায়েদ খান।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে পিরোজপুরের সার্জিকেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডাগনিষ্টিক সেন্টারের মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ক্লিনিক দখল এবং ক্লিনিকে বসবাসকারী ডা. বিজয় কৃষ্ণ হালদারের পরিবারকে উৎখাত করার জন্য ঘটে যাওয়া নানা বিষয়ে তার (চিত্র নায়ক জায়েদ খান) জড়িত থাকার বিষয় সম্পর্কে তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এসময় সাংবাদিকদের সাথে সরাসরি বিষয়গুলোর উত্তর দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্র নায়ক জায়েদ খান বলেন, সার্জিকেয়ার ক্লিনিকে যে বিষয়টি নিয়ে তার নাম বারবার উঠছে এর সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আরো বলেন, যদি ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তার সাথে আমি নয় আমার ভাই পিন্টু জড়িত। কোন প্রশ্ন থাকলে তাকে করুন। এটা আমার সম্পত্তি নয়, তাই এ বিষয়ে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। চলচ্চিত্রের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে আমার পিছনে নিন্দুকেরা লেগেই রয়েছে। হয়তো কারো ব্যক্তি আক্রোশের স্বীকার হচ্ছি। এসময় তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আমার নামটি জড়িয়ে বারবার আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। যদি আমার বিরুদ্ধে কোন সঠিক অভিযোগ থাকে তাহলে সংবাদ পরিবেশন করুন তাতে আমার কোন প্রকার আপত্তি নেই। তবে যে বিষয়ে আমার কোন উপস্থিতি নেই তাতে আমার নাম কেউ দয়া করে জড়াবেন না।

আগামী নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আমি আপাতত রাজনীতি নিয়ে ভাবছি না আমি দর্শকদের নিয়ে ভাবছি। তাদের পছন্দনুযায়ী কিছু সিনেমা উপহার দিতে পারলে আমি তাতেই খুশি।

পরে জায়েদ খান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শিল্পী সমিতিতে উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে সাংবাদিকের জানান।

উল্লেখ্য, চিত্র নায়ক জায়েদ খানের নিজ জেলা পিরোজপুর। প্রতিবারে মত এবারও তিনি নিজ জেলায় পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে আসেন। বেশ কিছু দিন ধরে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে সার্জিকেয়ার ক্লিনিক এর বিভিন্ন বিষয়ে তার নাম উঠে আসছিল। ক্লিনিকর মালিকানা নিয়ে তার ভাই ওবায়দুল হক পিন্টুর সাথে ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা ডা. বিজয় কৃষ্ণ হালদারে স্ত্রীর সাথে বিরোধ চলে আসছে। বর্তমানে ডা. বিজয় কৃষ্ণ হালদার গুরুতর অসুস্থ থাকায় ক্লিনিক বিষয়ে জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ডা. বিজয় কৃষ্ণ হালদারের স্ত্রী গিতা রানী মজুমদারের অভিযোগ, তার স্বামীর অসুস্থতার সুযোগে ব্যবসায়িক পাটনার ওবায়দুল হক পিন্টু তার ভাই চিত্র নায়ক জায়েদ খান এবং পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল হক মিন্টুর ক্ষমতার প্রভাব খাঠিয়ে ক্লিনিকটি দখল করতে চাচ্ছে। সে কারণে ক্লিনিকে বসবাস করায় তাকে (গিতা রানী) এবং তার মেয়েকে ক্লিনিক থেকে উৎখাত করার চেষ্টা করছে।

এদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওবায়দুল হক পিন্টু জানান, ক্লিনিকটির অর্ধেক অংশের মালিকানা অনেক আগেই ডা. বিজয় কৃষ্ণ হালদার দুই কোটি টাকার বিনিময়ে তার (পিন্টু) নামে রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। বাকী অর্ধেক অংশও বিক্রি করার জন্য ডা. বিজয় কৃষ্ণ আরো টাকা নিয়েছিলেন। যার ডকুমেন্টও রয়েছে। তবে ডা. বিজয় কৃষ্ণ হালদার অসুস্থ হয়ে পড়ার কারনেই বাকী অংশ রেজিষ্ট্রি করে দিতে না পারায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। পিন্টু ক্লিনিকটির মালিকানা তার দাবী করে আরও বলেন, ডা. বিজয় কৃষ্ণ হালদার ক্লিনিকে বর্তমানে অবস্থান না করলেও তার স্ত্রী গিতা রানী মেয়েকে নিয়ে জোরপূর্বক ক্লিনিকে অবস্থান করছেন।