প্রধান সূচি

অবশেষে সেই টিপু সুলতান কারাগারে

Nazirpur-Pic-Tepu

২০১১ সালের ৮ নভেম্বর পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মালিখালীতে সংঘঠিত পেনাখালী ট্রাজিডির নায়ক টিপু সুলতানকে অবশেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একটি হত্যা মামলা থেকে জামিন নেয়ার জন্য আজ বুধবার তিনি গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানী শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. কবির উদ্দিন প্রামানিক তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মুশফিকুর রহমান।

২০১১ সালের ৮ নভেম্বর টিপু বাহিনী নাজিরপুর উপজেলার পেনাখালী গ্রামের শতাধিক বাড়ী-ঘরে অগ্নি সংযোগসহ হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট করে। তখন ইয়াহিয়া দাড়িয়া নামে এক ব্যাক্তি টিপু বাহিনীর হাতে খুন হয়। ওই ঘটনায় তখন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানায় টিপুসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ নাজিরপুর থানায় আরো নয়টি মামলা রুজু হয়। অধিকাংশ মামলারই প্রধান আসামী করা হয় টিপুকে। টিপু স্থানীয় এমপি আউয়ালের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় নাজিরপুর থানায় রুজু হওয়া মামলা গুলোতে টিপুর নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং টুঙ্গিপাড়া থানায় রুজু হওয়া ইয়াহিয়া হত্যা মামলায় পুলিশ টিপুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ওই মামলায় টিপুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করে। ওই গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সেই থেকে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়িয়েছে টিপু সুলতান। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২১ আগস্ট সমকালে ‘প্রকাশ্যে ঘুরেও এমপির দোয়ায় ‘পলাতক’ টিপু‘ শিরোনামে একটি স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রশাসনের টনকনড়ে। এর পর কিছুদিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলতে হয় টিপুকে। অবশেষে গতকাল বুধবার গোপালগঞ্জের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

মালিখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান জানান, ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল হাই শেখের পুত্র টিপু সুলতান এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনি স্থানীয় এমপি আউয়ালের সান্নিধ্য লাভ করে। তারই ধারাবাহিকতায় টিপু সুলতান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ২০১১ সালের ৮ নভেম্বর মালিখালী ইউনিয়নের পেনাখালী গ্রামের শতাধিক বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং লুটপাট করে। তখন টিপু বাহিনীর হামলায় ইয়াহিয়া দাড়িয়া খুন হয় এবং শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়। এ ঘটনা স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পাকিস্তানীদের তান্ডবকেও হার মানায়। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা টুঙ্গিপাড়া থানায় ইয়াহিয়া হত্যা মামলাসহ নাজিরপুর থানায় মোট ১০টি মামলা করে। যার মধ্যে হত্যা মামলাসহ ৯টি মামলার প্রধান আসামী টিপু সুলতান। ওই ঘটনায় এমপি আউয়াল পরোক্ষভাবে জড়িত বলে তখন বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু টিপু সুলতান এমপি’র ঘনিষ্ট হওয়ায় রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিপুর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ঘটনার পুরস্কার স্বরূপ রাজাকার পুত্র টিপু সুলতানকে নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও তার বড় ভাই শাহজাহান শেখকে মালিখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। এর পর থেকে টিপু সুলতানসহ তার বাহিনীর সদস্যরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। টিপুর নেতৃত্বে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড শুরু হয়। টিপু এমপি’র ঘনিষ্ট হওয়ায় এবং সে এতো বড় ঘটনা ঘটানোর পরেও ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় কেউ তার কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও তাকে বিভিন্ন হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে।