Main Menu

প্রকাশ্যে ঘুরেও টিপু সুলতান পুলিশের খাতায় পলাতক

Nazirpur-Tipu-Sultan

টিপু সুলতান স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান হলেও এখন তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানায় রুজু হওয়া একটি হত্যা মামলার ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে বিগত ৭ বছর ধরে তিনি দলীয় সকল কর্মকান্ডে সরাসরি অংশ গ্রহণ করে আসছেন। স্থানীয় এমপি’র সঙ্গে পুলিশের সামনেই দলীয় সকল কর্মসূচীতে তাকে সামনে কাতারেই দেখা যাচ্ছে। প্রকাশ্যেই এসব কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পুলিশের খাতায় এখনও তিনি পলাতক। অজ্ঞাত কারণে তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের র‌্যালীতে পুলিশের উপস্থিতিতে টিপু সুলতানকে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি একেএমএ আউয়ালের সাথে র‌্যালীর সামনের দিকে দেখা যায়। ওই র‌্যালীর ছবি তিনি তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করায় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সমলোচনার ঝড় বইছে। এছাড়া তিনি ওই ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে স্থানীয় এমপি’র আর্শিবাদে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে আনারস প্রতিক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ্যে প্রতিদ্বন্দিতাও করেছেন।

টিপু সুলতান উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পেনাখালী গ্রামের মৃত আব্দুল হাই শেখের ছেলে। তার পিতার বিরুদ্ধে রয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীতার অভিযোগ। ২০১১ সালের ৮ নভেম্বর সংঘঠিত নাজিরপুরের আলোচিত পেনাখালী ট্রাজিডির নায়ক এই টিপু সুলতান। ওই সময় টিপু বাহিনী পেনাখালী গ্রামের শতাধিক বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং লুটপাট করে। তখন টিপু বাহিনীর হামলায় ইয়াহিয়া দাড়িয়া নামে এক ব্যক্তি খুন হয়। ওই ঘটনায় তখন টিপুর বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলাসহ নাজিরপুর থানায় মোট ১০টি মামলা রুজু হয়। যার মধ্যে হত্যা মামলাসহ ৯টি মামলারই প্রধান আসামী এই টিপু সুলতান। বিভিন্ন কৌশলে এবং এমপি আউয়ালের প্রভাবে নাজিরপুর থানায় রুজু হওয়া মামলা গুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও টুঙ্গিপাড়া থানায় রুজু হওয়া ইয়াহিয়া হত্যা মামলায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে নাজিরপুর থানায় প্রেরণ করে। গত সাত বছর ধরে ওই ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক।

মালিখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম দাড়িয়া ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান জানান, ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল হাই শেখের পুত্র টিপু সুলতান এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনি স্থানীয় এমপি আউয়ালের সান্নিধ্য লাভ করে। তারই ধারাবাহিকতায় টিপু সুলতান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ২০১১ সালের ৮ নভেম্বর মালিখালী ইউনিয়নের পেনাখালী গ্রামের শতাধিক বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং লুটপাট করে। তখন টিপু বাহিনীর হামলায় ইয়াহিয়া দাড়িয়া খুন হয় এবং শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়। এ ঘটনা স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পাকিস্তানীদের তান্ডবকেও হার মানায়। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা টুঙ্গিপাড়া থানায় ইয়াহিয়া হত্যা মামলাসহ নাজিরপুর থানায় মোট ১০টি মামলা করে। যার মধ্যে হত্যা মামলাসহ ৯টি মামলার প্রধান আসামী টিপু সুলতান। ওই ঘটনায় এমপি আউয়াল পরোক্ষভাবে জড়িত বলে তখন বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু টিপু সুলতান এমপি’র ঘনিষ্ট হওয়ায় রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিপুর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ঘটনার পুরস্কার স্বরূপ রাজাকার পুত্র টিপু সুলতানকে নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও তার বড় ভাই শাহজাহান শেখকে মালিখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। এর পর থেকে টিপু সুলতানসহ তার বাহিনীর সদস্যরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। টিপুর নেতৃত্বে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড শুরু হয়। টিপু এমপি’র ঘনিষ্ট হওয়ায় এবং সে এতো বড় ঘটনা ঘটানোর পরেও ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় কেউ তার কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। কেউ কেউ প্রদিবাদ করলেও তাকে বিভিন্ন হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে।

টিপু সুলতানে হয়রানীর শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া নাজমুল হক নামের এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সম্প্রতি টিপু সুলতানের এসব কর্মকান্ড তুলে ধরে তার ফেসবুক আইডি একটি পোস্ট দিলে সেটি ভাইরাল হয়। ওই পোস্টে নাজমুলকে দেখে নেয়ার হুমকির একটি অডিও রের্কডও প্রকাশ করা হয়। কথা হলে নাজমুল জানান, টিপু সুলতানের অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় তিনি একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে হয়রানী করে আসছে। সম্প্রতি মুঠোফোনে তাকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেয় টিপু সুলতান।

অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে টিপু সুলতান তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, মামলাটি নিস্পত্তির পথে রয়েছে। দ্রুত এটি সমাধান হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কথা হলে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির বলেন, আমি খোঁজ নিচ্ছি তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে কিনা, ওয়ারেন্ট থাকলে অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *