Main Menu

নাজিরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত বৃদ্ধার মৃত্যু, ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ সমাহিত

Nazirpur-Pic-29

পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রতিপক্ষের হামলার আহত শোভা রানী ঢালী (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শোভা রানী ঢালী উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের বালিবাবলা গ্রামের মৃত লক্ষণ ঢালীর স্ত্রী। স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি সদস্যের চাপে ভুক্তভোগী পরিবারটি মৃত্যুর ঘটনা পুলিশকে না জানিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই তড়িগড়ি করে লাশ সমাহিত করতে বাধ্য হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, গত ৩১ মে দুপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মহাদেব ঢালী, উত্তম ঢালী, জয়দেব ঢালী, শিলা ঢালী, সঞ্জয় ঢালী, ও শুধাংশু ঢালী মিলে নিহত শোভা ঢালীসহ তার প্রতিবন্ধি ছেলে বিধান ঢালী ও পুত্রবধূ সন্ধ্যা ঢালীকে মারধর করে। স্থানীয়রা ওই দিন বিকেলে আহত অবস্থায় নিহত শোভা ঢালী ও তার ছেলে বিধান ঢালীকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ওই দিনই বিধান ঢালীর স্ত্রী সন্ধ্যা ঢালী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে নাজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ১৯ জুন স্থানীয় ইউপি সদস্য সুদেব হালদার ঘটনাটি মিমাংশা করে দেয়ার কথা বলে অসুস্থ শোভা ঢালীকে হাসপাতাল থেকে বাড়ী নিয়ে আসলে গত মঙ্গলবার রাতে শোভা রানী ঢালী নিজ বাড়ীতে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। এ ঘটনা প্রতিপক্ষরা ইউপি সদস্য সুদেব হালদারকে জানালে তিনি বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার জন্য অসহায় ওই পরিবারটিকে ভুল বুঝিয়ে থানা পুলিশকে না জানিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই তড়িগড়ি করে লাশ সমাহিত করে।

নিহত শোভা রানী ঢালীর পুত্রবধূ সন্ধ্যা ঢালী জানান, হামলার পরে ওই দিনই গুরুতর আহত তার শ্বাশুড়ী ও স্বামীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুদেব হালদার ঘটনাটি মিমাংশা করে দেয়ার কথা বলে মামলা না করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু ঘটনার কোন মিমাংশা না করে আহত শ্বাশুড়ী ও স্বামীকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হলে ওই ইউপি সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধাপা চাপা দিতে কোন মামলা বা ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ সমাহিত করতে বাধ্য করে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সুদেব হালদার জানান, তিনি বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি থানা পুলিশের অনুমতি নিয়ে লাশ সমাহিত করতে বলায় সমাহিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্র বলেন, এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সুদেব হালদারের সাথে আমার কোন কথা হয়নি। মারধরের ঘটনা যে দিন ঘটেছে ওই তারা আমার কাছে আসলে আমি তাদের হাসপাতালে পাঠাই এবং থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। এর পরে কি হয়েছে তা আমার জানা নাই।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডাঃ তানভীর হাসান বলেন, শোভা রানী ঢালী প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে ৩১ মে থেকে ১৯ জন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, সন্ধ্যা ঢালী লিখিত অভিযোগ পেয়ে জিডি করে তদন্তে অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু শোভা ঢালী মারা যাওয়ার বিষয়ে কোন তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি গত বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনী সহায়তার জন্য থানায় আসতে বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *