Main Menu

কালকিনিতে ১৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও’র প্রধান

NGO-chief-disappeared-with-

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি এনজিওর মালিকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মীরা জানান, ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও পরিচালনা করতেন মো. মনিরুজ্জামান। ২০০৭ সালে কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় তিনি স্থানীয় ৩০ জনকে মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এনজিওটি যাত্রা শুরু করেন। সহজ শর্তে ঋণ ও অধিক মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থা থাকায় এনজিওটির কর্মীরা কালকিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ১০ হাজার গ্রাহক তৈরি করেন। আর এই গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ১৫ কোটি টাকা তুলে এনজিওটির মালিক মনিরুজ্জামানের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু এনজিওটির মালিক মনিরুজ্জামান কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ এলাকা ছেড়ে উধাও হয়ে যান।

এনজিওটির কর্মীরা বলেন, ১০ এপ্রিল মনিরুজ্জামান সপরিবারে বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে গ্রাহকের প্রায় ১৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হন। তাঁর এ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রাহকদের চাপে চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মী জসিমউদ্দিন বলেন, ‘আমরা মাঠকর্মী। পেটের দায়ে এখানে কম বেতনেই চাকরি করেছি। গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আমরা সংগ্রহ করে তা বইয়ের মাধ্যমে লিখে রেখে তা মালিকের কাছে জমা দিয়েছি।’

আরেক কর্মী শেফালী বেগম বলেন, ‘গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য রীতিমতো আমাদের চাপ প্রয়োগ করে আসছে। আমরা বহুবার যোগযোগ করেও মনিরুজ্জমানকে কোথাও খুঁজে পাইনি।’

এনজিওটি লক্ষ্মীপুর এলাকার গ্রাহক নাজমা বেগম বলেন, ‘আমি ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের একটি সঞ্চয়পত্র করি। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা জমা দিই। এখন মাঠকর্মীরা বলে, এনজিও মালিক নাকি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা অসহায় মানুষ। এখন আমাদের কী হবে। এনজিওর কর্মীরা বলেছে, মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয় অভিযুক্ত মালিক মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বাড়িতে গিয়ে তা তালাবদ্ধ দেখা যায়।

কালকিনি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রমথরঞ্জন ঘটক বলেন, ‘আমি শুনেছি এনজিওটির মালিক নাকি গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়েছে। এ বিষয়ে গ্রাহকের সচেতন হওয়া উচিত ছিল। এনজিওটির কর্মীরা আমাদের কাছে এখনো সহায়তা চায়নি। যদি সহায়তা চায়, তবে আমরা ওই প্রতারকরে বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শই দেব।’

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *